March 2, 2026, 12:23 am
স্টাফ রিপোর্টার ॥
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি বলেছেন, গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে। গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা না দিলে তাদের সৃজনশীলতা থাকবে না। তাদের যত বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হবে, তারা তত বেশি অনুসন্ধানী ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারবে। অনুসন্ধানী ক্ষমতা যত বেশি ধারালো হবে, রাষ্ট্র তত জবাবদিহিতার মধ্যে পড়বে। রাষ্ট্র যত বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে পড়বে, তত বেশি জনগণের কল্যাণমুখী হতে বাধ্য হবে। সাংবাদিক হিসেবে এই উপলব্ধিটা থাকা দরকার। মন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে বরিশাল প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘স্বজন স্মরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যকে সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশের ফলে তথ্য এখন আর কেবল ব্যক্তিগত উপলব্ধির বিষয় নয়; বরং এটি একটি বস্তুনিষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো তথ্য তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট ‘ডাটা সিস্টেম’ প্রয়োজন হয়। আর এই ডাটা সিস্টেমে প্রবেশের প্রধান শর্ত হলো একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করা। তথ্যমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ফলে তথ্যের আদান-প্রদান ও ব্যবস্থাপনা এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে এমন উন্নত ও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, তথ্যের সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়েছে। তথ্যকে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়। দেশে অনেক প্রতিভাবান ও জ্ঞানী মানুষ থাকা সত্ত্বেও, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির এই অবাধ প্রবাহে বিচরণ করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ ও অবকাঠামো আমরা এখনো নিশ্চিত করতে সক্ষম হইনি। সাংবাদিকতা সম্মানজনক পেশা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা দিতে হবে। যে ধরনের বেতন কাঠামোর মধ্যে থাকলে জ্ঞান ভিত্তিক পেশাতে নিজেদের নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ করা, গবেষণায় মনোনিবেশ করতে পারেন। সে জন্য পত্রিকা মালিকদের সম্মানজনক ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাংবাদিক নীতিমালার বিষয় তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নীতিমালার দায়িত্ব সাংবাদিকদের নিতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীরা জবাবদিহিতার নীতিমালা নির্ধারণ করবে, সে নীতিমালার মাধ্যমে সরকার সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করবে। বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু এর সভাপতিত্বে ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, বরিশাল পিআইডি‘র উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোছাঃ আফরোজা নাইচ রিমা, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সদস্য, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিকগণ ও ঢাকার বিভিন্ন প্রেসক্লাব এবং সাংবাদিক সংগঠনের গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অপর দিকে গতকাল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি বলেছেন, রাষ্ট্রকে আরও মানবিক করে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের জীবন সংক্ষিপ্ত। এই সংক্ষিপ্ত জীবনে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সর্বদা তৎপরতা থাকতে হবে। মন্ত্রী শুক্রবার সকাল ৯:০০ টায় নগরীর সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ আয়োজিত বরিশাল ও পিরোজপুর জেলায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। এ কান্না যেন থামেই না। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পাশাপাশি অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। এই নিঃস্ব পরিবারের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি। এছাড়াও অর্থ সহায়তার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজকে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চালক, পথচারী এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় যারা নিয়োজিত তাদেরকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সচেতনত থাকতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলা, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন শ্রমিক নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, হয়রানি, ট্রাফিক আইন অমান্য করাসহ যত্রতত্র ধর্মঘট করার ফলে জনজীবনকে নানা রকম ভোগান্তিতে ফেলে দেয়। এই অরাজকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কোন ধরনের আইন বহির্ভূত কাজ করা যাবে না বলে তিনি এসময় মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, পিরোজপুর জেলার ৭ জন ও বরিশাল জেলার ৫৪ জনসহ মোট ৬১ জন ক্ষতিগ্রস্তকে ২ কোটি ১৭ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ ও পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, বরিশাল বিআরটিএ পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমান, বিআরটিএ পরিচালক (যুগ্ম সচিব) রুবাইয়াৎ-ই-আশিক, সড়ক শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তাফা কামাল, বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিরাজ শিকদার ডালিম ও গণমাধ্যমকর্মী।
Leave a Reply